কবর দেওয়া হলো পাশাপাশি সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেলো তিন বন্ধুর,ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার জুবায়ের, নাহিদ ও হুসাইন ছিলেন সমবয়সী। বেড়ে ওঠা, চলাফেরা সবই ছিল একসঙ্গে। তবে ভাগ্যের কী নির্মম পরিহাস; তারা পৃথিবী থেকে বিদায়ও নিয়েছেন একসঙ্গে।

কবর দেওয়া হলো পাশাপাশি সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেলো তিন বন্ধুর
মেলা দেখে ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় ওই তিনজনই নিহত হয়েছেন। তাদের কবরও দেওয়া হয়েছে পাশাপাশি।
বুধবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে ওই তিন বন্ধুকে বাগাট কেন্দ্রীয় গোরস্থানে দাফন করা হয়েছে।
নিহতরা হলেন, উপজেলার বাগাট গ্রামের বিশ্বাসপাড়া এলাকার বাদশা বিশ্বাসের ছেলে জুবায়ের বিশ্বাস (১৯), ইদ্রিস আলী বিশ্বাসের ছেলে নাহিদ বিশ্বাস (১৮) ও মজিবর সরদারের ছেলে হুসাইন সরদার (১৯)। এরমধ্যে জুবায়ের এসএসসি পরীক্ষায় ফেল করার পর বাগাট বাজারে ফ্লেক্সিলোডের ব্যবসা করতেন। নাহিদ কলেজছাত্র এবং হুসাইন গতবছর এইচএসসি পাস করেছেন।
মঙ্গলবার বিকেলে ইদ্রিস বিশ্বাসের মোটরসাইকেল নিয়ে তিন বন্ধু পাশেই কামারখালীতে ঋষি বটতলা এলাকায় মেলা দেখতে যান। তিনজনের মধ্যে শুধু নাহিদ বিশ্বাসের মাথায় হেলমেট ছিল। তারা মেলা দেখে ফেরার পথে ঝড়-বৃষ্টির কবলে পড়েন। ঝড়ে ঢাকা খুলনা মহাসড়কে একটি গাছ উপড়ে পড়েছিল। সেটি পাশ কাটাতে গিয়ে গাছের ডালের সঙ্গে ধাক্কা লেগে মোটরসাইকেলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তিনজনই পড়ে যান। এসময় মাগুরাগামী দ্রুতগতির একটি বাস তাদের চাপা দিয়ে পালিয়ে যায়।
বাগাট বিশ্বাসপাড়া গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য মুজিবুর রহমান বলেন, আমার বাড়ির পাশেই তাদের বাড়ি। জুবায়ের ও নাহিদ সম্পর্কে চাচাতো ভাই হলেও বন্ধুর মতো ছিল তাদের চলাফেরা থেকে শুরু করে সবকিছু। তাদের সঙ্গে দেখা হলেই সালাম দিতো। নম্র-ভদ্র ছিল। তারা কোনো খারাপ কাজের সঙ্গে জড়িত এমন অভিযোগ কখনো শুনিনি। তিনটি তাজা প্রাণ যে এভাবে ঝরে যাবে বিশ্বাস করতে পারছি না।
এ বিষয়ে বাগাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বলেন, তারা তিন জনই আত্মার বন্ধু। ভালো ছেলে হিসেবে এলাকায় পরিচিত ছিল। আচার-ব্যবহারও ভালো ছিল। আজ পর্যন্ত তাদের নামে কোনো রকম বদনাম শুনিনি। তাদের এমন মৃত্যু কোনোভাবেই মানতে পারছি না।
তিনি আরও বলেন, বুধবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে জানাজা শেষে সন্ধ্যা ৬টার দিকে স্থানীয় বাগাট কেন্দ্রীয় গোরস্থানে তাদের তিনজনকে পাশাপাশি কবর দেওয়া হয়েছে। পরিবারের সদস্য ও স্বজনদের সান্ত্বনা দেওয়ার ভাষা নেই। তিন তরুণের পরিবারেই চলছে শোকের মাতম। এলাকার হাজার হাজার মানুষ তাদের জানাজায় অংশ নেন এবং অশ্রুসিক্ত নয়নে তাদের চিরবিদায় দেন।
