পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের প্রবেশদ্বার হিসেবে ফরিদপুর জেলার গুরুত্ব বহুগুণ বেড়ে গেছে। ব্যবসা-বাণিজ্য, চাকরি কিংবা ভ্রমণে এখন প্রচুর মানুষ এই জেলায় যাতায়াত করেন। ভ্রমণ বা কাজের প্রয়োজনে রাতে থাকার জন্য নিরাপদ এবং মানসম্মত আবাসনের খোঁজ রাখা অত্যন্ত জরুরি। আমাদের আজকের আয়োজনে থাকছে ফরিদপুর জেলার বিভিন্ন আধুনিক হোটেল, বাজেট হোটেল, সরকারি ডাকবাংলো এবং রিসোর্টের বিস্তারিত তথ্য।
ফরিদপুর জেলার আবাসন

১. আধুনিক ও মানসম্মত হোটেল (এসি/নন–এসি)
যারা একটু আরামদায়ক ও আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্পন্ন আবাসন খুঁজছেন, তাদের জন্য ফরিদপুর শহরে বেশ কিছু ভালো মানের হোটেল গড়ে উঠেছে।
| হোটেলের নাম | ঠিকানা ও অবস্থান | সুবিধা ও বিবরণ | যোগাযোগ (ফোন) |
| হোটেল র্যাফেল ইনস | গোয়ালচামট, ফরিদপুর | আধুনিক ইন্টেরিয়র, কনফারেন্স রুম ও রেস্টুরেন্ট সুবিধা।
কক্ষ: ৩২টি |
০৬৩১-৬১১০৬ |
| হোটেল লাক্সারী | গোয়ালচামট, ফরিদপুর | শহরের অন্যতম পুরনো ও জনপ্রিয় হোটেল।
কক্ষ: ৬৫টি |
০৬৩১-৬২৬২৩ |
| হোটেল রেইন ফরেস্ট | মুজিব সড়ক, ফরিদপুর | আধুনিক সুযোগ-সুবিধা, লিফট ও ওয়াইফাই সুবিধা রয়েছে। কর্পোরেট গেস্টদের জন্য উপযোগী। | ০১৭১৬-৫৮৮৯৯৯ |
| হোটেল পার্ক প্যালেস | ফরিদপুর সদর | নিরিবিলি পরিবেশ এবং মধ্যম বাজেটের মধ্যে ভালো মানের সেবা।
কক্ষ: ৩৮টি |
০১৫৫৬-৩২৭০৬৭ |
| হোটেল পদ্মা | মুজিব সড়ক, ফরিদপুর | শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত, যাতায়াত সুবিধাজনক।
কক্ষ: ৪৫টি |
০৬৩১-৬২৬৮৫ |
(বিদ্র: ভালো মানের হোটেলগুলোতে এসি রুমের ভাড়া সাধারণত ১০০০ থেকে ৩০০০ টাকার মধ্যে হয়ে থাকে। সিজনভেদে এটি পরিবর্তন হতে পারে।)

২. সাধারণ ও বাজেট হোটেল (সাশ্রয়ী আবাসন)
স্বল্প খরচে থাকার জন্য ফরিদপুর সদরে বেশ কিছু সাধারণ মানের বোডিং ও হোটেল রয়েছে।
| হোটেলের নাম | ঠিকানা | কক্ষ সংখ্যা | আনুমানিক ভাড়া (নন–এসি)* | যোগাযোগ |
| হোটেল শ্যামলী | মুজিব সড়ক, ফরিদপুর | ১৩টি | ৮০/- থেকে শুরু | ০৬৩১-৬৪৫৩৮ |
| হোটেল জোনাকী | গোয়ালচামট, ফরিদপুর | ৪৪টি | ৬০/- থেকে শুরু | ০৬৩১-৬৪১৬৮ |
| রাজ বোডিং | গোয়ালচামট, ফরিদপুর | ৩৭টি | ৮০/- থেকে শুরু | ০১৭২৫-০৬৮৭৮৮ |
| হোটেল নিউ গার্ডেন | নীলটুলী, ফরিদপুর | ২০+ | ১৫০/- থেকে শুরু | – |
(সতর্কতা: বাজেট হোটেলগুলোর ভাড়া অত্যন্ত কম হওয়ায় সুযোগ–সুবিধা সীমিত। পরিবার নিয়ে থাকার আগে রুম দেখে নেওয়া বাঞ্ছনীয়। ভাড়ার তালিকা সময়ভেদে পরিবর্তন হতে পারে।)
৩. সরকারি রেস্ট হাউজ ও ডাকবাংলো
সরকারি কর্মকর্তাদের পাশাপাশি সাধারণ নাগরিকদের জন্যও শর্তসাপেক্ষে এবং খালি থাকা সাপেক্ষে সরকারি রেস্ট হাউজগুলোতে থাকার ব্যবস্থা রয়েছে। এগুলোর পরিবেশ সাধারণত বেশ নিরাপদ ও মনোরম হয়।
| প্রতিষ্ঠানের নাম | অবস্থান/ঠিকানা | বুকিং/যোগাযোগ কর্তৃপক্ষ | ফোন |
| ফরিদপুর সার্কিট হাউজ | শহরের কেন্দ্রস্থল | জেলা প্রশাসক (নেজারত শাখা) | ০৬৩১-৬৩২০০ |
| আঞ্চলিক ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট গেস্ট হাউজ | ভাঙ্গা, ফরিদপুর | প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা, ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট | ০৬৩২৩-৫৬৩২৯ |
| জেলা পরিষদ ডাক বাংলো (ভাঙ্গা) | কোর্ট পাড়, ভাঙ্গা | প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, জেলা পরিষদ | – |
| জেলা পরিষদ ডাক বাংলো (চরভদ্রাসন) | চরভদ্রাসন | প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, জেলা পরিষদ | – |
| এলজিইডি (LGED) রেস্ট হাউজ | ঝিলটুলী, ফরিদপুর | নির্বাহী প্রকৌশলী, এলজিইডি | – |
| সড়ক ও জনপথ পরিদর্শন বাংলো | রাজবাড়ী রাস্তার মোড় | নির্বাহী প্রকৌশলী, সওজ | – |
৪. রিসোর্ট ও বিনোদন কেন্দ্রিক আবাসন
ফরিদপুরে ইদানীং শহরের কোলাহল থেকে দূরে প্রকৃতির সান্নিধ্যে সময় কাটানোর জন্য কিছু রিসোর্ট টাইপ আবাসন গড়ে উঠছে।
- ভাঙা হাইওয়ে এবং এক্সপ্রেসওয়ে এলাকা: পদ্মা সেতু পার হয়ে ভাঙা ইন্টারচেঞ্জ এলাকায় আধুনিক মানের কিছু মোটেল এবং রেস্তোরাঁ গড়ে উঠছে যেখানে যাত্রাবিরতির পাশাপাশি স্বল্প সময়ের জন্য বিশ্রামের ব্যবস্থা রয়েছে।
- পল্লী বিদ্যুৎ রেস্ট হাউজ: শহরের কানাইপুরে অবস্থিত, তবে এখানে থাকার জন্য পূর্বানুমতির প্রয়োজন হয়।
ফরিদপুরে থাকার ক্ষেত্রে কিছু টিপস:
১. বুকিং: বিশেষ করে শীতকালে বা উৎসবের সময় হোটেলগুলোতে ভিড় থাকে, তাই আগে থেকে ফোন করে বুকিং নিশ্চিত করা ভালো।
২. পরিচয়পত্র: হোটেলে ওঠার সময় জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) বা পাসপোর্টের কপি সাথে রাখা বাধ্যতামূলক।
৩. যাতায়াত: হোটেল র্যাফেল ইনস, লাক্সারী এবং হোটেল পদ্মা বাস স্ট্যান্ড (নতুন বা পুরাতন) থেকে রিকশা বা অটোরিকশায় খুব সহজেই যাওয়া যায়।
ফরিদপুর ভ্রমণে আপনার আবাসন ও রাত্রিযাপন আনন্দদায়ক ও নিরাপদ হোক।