খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১ই জানুয়ারি ২০১৫, ১২:০ পিএম
বাংলাদেশের দক্ষিণ-মধ্যাঞ্চলের অন্যতম প্রাচীন ও গুরুত্বপূর্ণ জেলা ফরিদপুর। পদ্মা বিধৌত এই জনপদটি শুধু ভৌগোলিক কারণেই নয়, বরং এর সমৃদ্ধ ইতিহাস, সংস্কৃতি, বিখ্যাত ব্যক্তিবর্গ এবং কৃষি বাণিজ্যের জন্য দেশজুড়ে সুপরিচিত। “ফরিদপুর জেলা কিসের জন্য বিখ্যাত”– এই প্রশ্নের উত্তর এক কথায় দেওয়া কঠিন, কারণ এর খ্যাতির পরিধি অনেক বিস্তৃত।

ফরিদপুর জেলার নামকরণ করা হয়েছে প্রখ্যাত সুফি সাধক শাহ শেখ ফরিদউদ্দিন-এর নামানুসারে। ব্রিটিশ আমলে এটি ছিল অবিভক্ত বাংলার অন্যতম বৃহৎ এবং গুরুত্বপূর্ণ জেলা। ১৮১৫ সালে জেলা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে রাজনীতি ও প্রশাসনিক ক্ষেত্রে ফরিদপুর সবসময়ই সামনের সারিতে ছিল। ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন বিশেষ করে ‘ফরায়েজী আন্দোলন’-এর সূতিকাগার ছিল এই বৃহত্তর ফরিদপুর।

ফরিদপুরকে বলা হয় রত্নগর্ভা জেলা। রাজনীতি, সাহিত্য এবং সমাজ সংস্কারে এই জেলার সন্তানদের অবদান অনস্বীকার্য। যদিও গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর, শরিীয়তপুর ও রাজবাড়ী এখন আলাদা জেলা, তবুও ঐতিহাসিকভাবে এরা বৃহত্তর ফরিদপুরের অংশ ছিল। ফরিদপুরের খ্যাতির অন্যতম বড় কারণ এর কৃতী সন্তানেরা:
কৃষিজাত পণ্যের জন্য ফরিদপুর সারা দেশে বিখ্যাত।
বাংলাদেশের একমাত্র নদী গবেষণা ইনস্টিটিউট ফরিদপুর শহরের হারুকান্দি এলাকায় অবস্থিত। নদীমাতৃক বাংলাদেশের নদ-নদী রক্ষা, ভাঙন রোধ এবং পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনার গবেষণার জন্য এটি একটি জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। এর সুন্দর ক্যাম্পাস পর্যটকদেরও আকর্ষণ করে।
ফরিদপুর জেলায় বেশ কিছু ঐতিহাসিক ও দর্শনীয় স্থান রয়েছে যা পর্যটকদের মুগ্ধ করে:
বাইশ রশি জমিদার বাড়ি: এটিও একটি ঐতিহাসিক স্থাপনা যা তার জৌলুস এবং ইতিহাসের জন্য বিখ্যাত।
ফরিদপুরের মালাই সর (Malai Sar) বা মালাই চা এবং বিশেষ ধরণের মিষ্টির বেশ কদর রয়েছে। এখানকার রাজবাড়ী রাস্তার মোড়ের মিষ্টি এবং শহরের বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী দোকানের দধি ও রসগোল্লা ভোজনরসিকদের প্রিয়।
ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে ফরিদপুরকে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের প্রবেশদ্বার বলা হয়। বিশেষ করে পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর ফরিদপুরের গুরুত্ব বহুগুণ বেড়ে গেছে। এটি এখন ঢাকা এবং দক্ষিণবঙ্গের ২১টি জেলার সংযোগস্থলের প্রধান কেন্দ্র। দেশের অন্যতম ব্যস্ত দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুট (ফরিদপুরের নিকটবর্তী রাজবাড়ী জেলায় অবস্থিত হলেও অর্থনৈতিকভাবে ফরিদপুর সংশ্লিষ্ট) এবং রেল যোগাযোগ এই জেলাকে বাণিজ্যিক হাব-এ পরিণত করেছে।

পরিশেষে বলা যায়, ফরিদপুর কেবল একটি জেলা নয়, এটি ইতিহাস ও ঐতিহ্যের এক বিশাল ভাণ্ডার। পল্লীকবির কবিতা, সুফি সাধকদের আধ্যাত্মিকতা, পাটের সোনালী ঐতিহ্য এবং খেজুর গুড়ের মিষ্টি ঘ্রাণ—সব মিলিয়ে ফরিদপুর বাংলাদেশের মানচিত্রে এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। শিক্ষা, সাহিত্য, রাজনীতি এবং কৃষিতে এই জেলার অবদান বাঙালি জাতি চিরকাল শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করবে।
মন্তব্য